alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার বলি মিতু, ৩ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে বাবুল

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২২, ০৪:৩৭ পিএম

পরকীয়ার বলি মিতু, ৩ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে বাবুল
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তের সকল তথ্যপ্রমাণে 'দোষী' প্রমাণিত হতে পারেন স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। তদন্ত প্রতিবেদন গুছিয়ে নিয়ে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে উল্লেখ আছে, নিজে পরকীয়া জড়িয়ে পড়ায় স্ত্রীকে খুন করতে খুনিদের ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বাবুল আক্তার। যারা সবাই তার পুর্ব পরিচিত। আর কিলিং মিশনে স্পটে ছিলেন ৬ জন।

তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত বিদেশি নাগরিক এক নারীর সঙ্গে বাবুলের পরকীয়ার জড়িয়ে পড়া নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এর জেরে বাবুল আক্তার স্ত্রীকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন। বাবুলের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সময় কিলিং মিশনে ছয় জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একজন অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। বাবুল আক্তার তার স্ত্রীকে খুন করতে খুনিদের ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। মিতুকে খুনের মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের ‘সোর্স’ মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মুসাকে ফোনে নির্দেশ দেন- গা ঢাকা দেওয়ার জন্য। আর নিজেকে আড়ালে রাখতে প্রচার করেন- জঙ্গিরাই মিতুকে খুন করেছে।

অভিযোগপত্রে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যিনি এই মামলার বাদী। বাকি ছয় আসামি হলো- মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু এবং শাহজাহান মিয়া।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক মিতু হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের সাক্ষ্যস্মারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরীর কাছে জমা দিয়েছেন। সোমবার (২২ আগস্ট) রাতে এতে সম্মতি দিয়ে সই করেছেন পিপি।

পিপি ফখরুদ্দিন জানান, মূল অভিযোগপত্র নয় পৃষ্ঠার। তবে এর সঙ্গে দশ খণ্ডের নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো তদন্ত হয়েছে। একেবারে নির্মোহ, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। তদন্তে বাদ পড়েছে এমন কিছু আমার চোখে পড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ফৌজদারি মামলায় বাদীকেই অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত হিসেবে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে এবং তার সঙ্গে যুক্তদের অপরাধ অভিযোগপত্রে প্রমাণের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং তদারক কর্মকর্তা যথেষ্ঠ দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদি হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। 

গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে আদালতের আদেশে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। 

হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এর পরদিন ১২ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। বাবুল আক্তারকে বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফা জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু জামিন পাননি।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

 

X