alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের জন্য কর্মী নিয়োগের কোটা দ্বিগুণ করলো দ. কোরিয়া

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২২, ০৫:১৭ পিএম

বাংলাদেশের জন্য কর্মী নিয়োগের কোটা দ্বিগুণ করলো দ. কোরিয়া
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় চার হাজার কর্মী নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এ সংখ্যা আগের বছরগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার সকালে কূটনীতি নিয়ে কাজ করা রিপোর্টারদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত ডিক্যাব টকে অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে, তবে বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি। রেকর্ড ২.৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে, যার মধ্যে দুটি দেশের মধ্যে কোরিয়ার রপ্তানি ৮০ শতাংশ ও বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘করোনার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী সবচেয়ে বেশি গিয়েছে। চলতি বছর ৪ হাজার কর্মী কোরিয়ায় যাচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ।’

লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে প্রায়ই একটি সাধারণ বিষয়ের পরামর্শ দিতেন, যেটি হলো কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণকে জানানো। আমাকে বলা হয়েছিল যে, অনেক বাংলাদেশি কোরিয়া এবং কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ পোষণ করে, কিন্তু আমাদের দুই দেশের মধ্যে কী ঘটছে, তা ভালোভাবে জানে না।

‘আমি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমার সমস্ত প্রচেষ্টায় আমি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। দুই বছর পর আমি এখন সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্রে কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি।’

রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন এ সময় চারটি ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সঙ্গে বড় উন্নয়নের চারটি ক্ষেত্র শেয়ার করতে চাই। প্রথম বড় অগ্রগতি আমি হাইলাইট করতে চাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২১ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার অতিক্রম করেছে।

‘কোরিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে কোরিয়ার রপ্তানি ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৫৫২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অর্থবহ অগ্রগতি। কারণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে ছিল এবং ২০১১ সালে এটি ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এ বছরও অব্যাহত রয়েছে। এই বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশে কোরিয়ার রপ্তানি হয়েছে ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে কোরিয়াতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৩৯২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

দ্বিতীয় অগ্রগতি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন।

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে এই বছর অর্থপূর্ণ অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি। তা হলো বাংলাদেশের ইপিএস কর্মীদের কোরিয়ায় প্রেরণ। মহামারির আগে কোরিয়ায় প্রতি বছর দুই হাজারেরও কম প্রবাসী কর্মী পাঠানো হয়েছে। প্রায় দুই বছর নতুন প্রবাসী কর্মী নিয়োগ স্থগিত থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে আবার চালু করি।

‘আর এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক কোরিয়ায় গেছেন যা রেকর্ড। এই বছরের শেষ নাগাদ আমরা আশা করছি সংখ্যা চার হাজার ছুঁয়ে যাবে।

‘কোরিয়ায় এখন ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক কাজ করছে। এই বছরের কোটা ১৯৪১ জন থেকে বেড়ে ৩৪৪১ হয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা ২০৯ মিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়। দেশটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ১২তম উৎস।

বিনিয়োগকে তৃতীয় খাত উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বড় সাম্প্রতিক উন্নয়নের পরবর্তী ক্ষেত্রটি আমি তুলে ধরতে চাই। তা হলো কোরিয়ার ওডিএ এবং বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। যদিও বাংলাদেশের কাছে কোরিয়ার ওডিএ জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।

‘বাংলাদেশ কোরিয়ার ওডিএর তৃতীয় প্রধান গ্রহীতা। আমরা আশা করছি যে, বাংলাদেশ এ বছর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাপক হবে।’

ওডিএ বা অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স হলো উন্নয়নশীল দেশ কিংবা সংস্থাগুলোকে দাতা দেশগুলোর দেয়া সহায়তা। এর মধ্যে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য কোমল ঋণের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাকে আমরা ইডিসিএফ বলি। আমরা এটাকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন হবে। আগের পরিকল্পনায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭০০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

‘এ পর্যন্ত কোরিয়া ২৭টি প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার ইডিসিএফ রেয়াতি ঋণ দিয়েছে। নতুন সীমা বৃদ্ধির ফলে কোরিয়া এখন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি যে, এটি ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।’

চতুর্থ খাত হিসেবে রাষ্ট্রদূত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইকে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগ অব্যাহতভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।

‘কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, কোরিয়ার এফডিআইয়ের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যা কোরিয়াকে এ দেশে পঞ্চম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী বানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী বছর কোরিয়া ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। বছরটিকে আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য অর্থবহ বর্ষ করতে আমি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা নিয়েছি।

‘আমাদের ৫০ বছরের বন্ধুত্ব সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা আমার প্রস্তুতির মধ্যে ছিল। এই উদযাপন ও প্রচেষ্টায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

নিউজনাউ/এসকে/২০২২ 

X