alo
ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে লাইটারেজ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২২, ১১:২১ পিএম

বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে লাইটারেজ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। 

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ঈছা মিয়া।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবিতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। দিনভর কর্মবিরতির পর সন্ধ্যায় বন্দর ভবনে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, লাইটারেজ শ্রমিক ফেডারেশন ও ঠিকাদার সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় সাংসদ এম এ লতিফ ও বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সকল ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান হয়েছে। এরপর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

উল্লেখ্য, গতবছর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন চরপাড়া এলাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি ঘাট নির্মাণ করে। শ্রমিকরা সেই ঘাট ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়। তারা ঘাট ব্যবহারে দশ টাকা মাশুল নির্ধারণ করে।

এ নিয়ে ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে থাকে। গত ৩ নভেম্বর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু পতেঙ্গা থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেয়। এ অবস্থায় শ্রমিকরা চরপাড়া ঘাট ত্যাগ করে আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকা থেকে লাইটারেজ জাহাজে ওঠানামা শুরু করেন।

কিন্তু সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে পারকি থেকে জাহাজে ওঠানামা বন্ধ করে দেন। এরপর শ্রমিকরা চাইনিজ ঘাট এলাকা থেকেও জাহাজে ওঠানামার চেষ্টা করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানেও অভিযান পরিচালনা করে। এরপর শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।

 

শেখ মোহাম্মদ ঈছা মিয়া বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি ছিল চরপাড়া ঘাট যেন শ্রমিকরা অবাধে ব্যবহার করতে পারে এবং ইজারা যেন বাতিল করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ দশ টাকা মাশুল এই মুহূর্ত থেকে প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইজারা বাতিলের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এরপর আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহির্নোঙর থেকে সারাদেশের নৌরুটে অন্ততঃ হাজার লাইটারেজ জাহাজ পণ্য আনা-নেয়া করে। এসব জাহাজে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। আমদানি করা ভোগ্যপণ্য, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ বিভিন্ন খোলা পণ্য নিয়ে বর্হিনোঙ্গরে আসা মাদার ভ্যাসেল (বড় জাহাজে) থেকে পণ্য খালাস হয় লাইটারেজ জাহাজে। এরপর নৌরুটে বিভিন্ন গন্তব্যে সেসব পণ্য নিয়ে যায় লাইটারেজ জাহাজগুলো।

 

নিউজনাউ/একে/২০২২
 

 

X