alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেলওয়ের ২ চিফ কমানড্যান্টসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২২, ০৭:৫১ পিএম

রেলওয়ের ২ চিফ কমানড্যান্টসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে (আরএনবি) ২০১৭ সালে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বর্তমান দুই চিফ কমানড্যান্টসহসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক।

মামলার আসামিরা হলেন- আরএনবি পূর্বাঞ্চলের চিফ কমানড্যান্ট জহিরুল ইসলাম (৫১), পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কনমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম (৩৩), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফুয়াদ হাসান পরাগ (৩৩), রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক এসপিও মো. সিরাজ উল্যাহ এবং পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ। এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম ঘটনার সময়ে ঢাকা বিভাগের কমান্ড্যান্ট এবং রেলওয়ের নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন। আশাবুল ইসলাম রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কমান্ড্যান্ট এবং ওই তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। ফুয়াদ হাসান পরাগ ঘটনার সময়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সদরের কমান্ড্যান্ট এবং নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন। ফারুক উল্লাহ ওই নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন এবং সৈয়দ ফারুক আহমেদ ওই নিয়োগের অনুমোদনকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

অন্যদিকে আরএনবি পূর্বাঞ্চলের সাবেক চিফ কমানড্যান্ট মো. ইকবাল হোসেনের (৬০) বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানকালে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর ইনচার্জ দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৭ সালে আরএনবির সিপাহি চতুর্থ শ্রেণির ১৮৫টি পদে নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিরা আরএনবি সিপাহি নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে ২০১৭ সালে আরএনবির সিপাহী চতুর্থ শ্রেণির ১৮৫টি পদে নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। একই বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। আসামিরা নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন। 

আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসাধু অভিপ্রায়ে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সদস্য ও অনুমোদনকারী হিসেবে ন্যস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে বিশেষ কোটার প্রার্থী যেমন মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটার প্রার্থীদেরকে পাসের কাছাকাছি নম্বর দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ দেখিয়ে ওই কোটায় পছন্দের প্রার্থীদেরকে মৌখিক পরীক্ষায় পাস দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

এছাড়া বিভাগীয় কোটা, জেলা কোটা, পোষ্য কোটাসহ অন্যান্য কোটা বিধি অনুযায়ী যথাযথভাবে প্রতিপালন না করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। 

 

 

X