alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাঁশখালীতে অস্ত্র কারখানায় র‍্যাবের অভিযান, মূল কারিগর আটক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২২, ০৩:৩৭ পিএম

বাঁশখালীতে অস্ত্র কারখানায় র‍্যাবের অভিযান, মূল কারিগর আটক
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাব। কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে ১০টি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশসহ মূল কারিগর জাকির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) উপজেলার চাম্বল নতুনপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। 

আটক জাকির হোসেনের (৫০) বাড়ি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রাম এলাকায়।

বুধবার (৩১ আগস্ট) র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে ছোট ওয়ানশুটার গান জাতীয় অস্ত্র বানানো হতো ওই কারখানায়। একসঙ্গে ৫ থেকে ১০টি অস্ত্রের অর্ডার নেয় জাকির। এসব অস্ত্র তৈরি করতে তাদের দেড় থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। এগুলো তারা দালালদের কাছে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এসব অস্ত্র কিনে নেন। আর অস্ত্র ব্যবসায়ীরা তা বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আটক জাকির ৭ থেকে ৮ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের দৃষ্টি এড়াতে মাঝে মাঝে লোক দেখানো কৃষি কাজ করতো। জাকির আগে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতো। তার কয়েকজন সহযোগী ছিল। তারা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অস্ত্রের জন্য এক হাজার টাকা করে পেতেন। অর্ডার পেলে প্রতিমাসে ২০-২৫টি অস্ত্র তৈরি করতে পারেন জাকির। সেসহ আরও তিন কারিগর মিলে অস্ত্র তৈরির সম্পূর্ণ কাজটি করতো। অস্ত্রের প্রকারভেদে তৈরী  করতে তাদের ন্যূনতম পাঁচ থেকে পনেরো দিন সময় লাগে এবং অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্কশপ থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে এসে এই কারখানায় প্রস্তুত করতো তারা।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি অস্ত্র তৈরি ও বিক্রি করা পর্যন্ত তিনটি গ্রুপ কাজ করে। সেখানে একটি গ্রুপ হচ্ছে অস্ত্রের কারিগর। কারিগরদের মূল হোতা জাকির হোসেন। তাকে অস্ত্র তৈরির কাজ দেয় দালালরা। আরেকটি গ্রুপ অস্ত্রের ক্রেতা নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, এসব অস্ত্রের তিন ধরনের ক্রেতা রয়েছে। মাদক কারবারিরা এসব অস্ত্র ক্রয় করে। বাঁশখালী একটি জলদস্যু প্রবণ এলাকা। এখানকার জলদস্যুরাও এসব অস্ত্রের বড় ক্রেতা। এছাড়া মহাসড়কে যারা ডাকাতি করে তারাও এসব অস্ত্রের ক্রেতা। দালাল ও ব্যবসায়ী গ্রুপের সদস্যদের আটক করতে পারলে এ চক্রের বাকি পরিকল্পনা জানা যাবে।

অভিযানে  ৮টি ওয়ান শুটার গান, ২টি টু-টু পিস্তল এবং অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। 

নিউজনাউ/একে/২০২২

X