alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
চেম্বার সিলগালা

মেট্রিকের গণ্ডি না পেরুলেও ৩০ বছর ধরে 'ডাক্তারি' জলিলের

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২২, ১০:৩৯ পিএম

মেট্রিকের গণ্ডি না পেরুলেও ৩০ বছর ধরে 'ডাক্তারি' জলিলের
alo

 

 

কর্ণফুলী প্রতিনিধি: পড়াশোনায় মেট্রিকের গণ্ডি পেরুতে না পারলেও গত তিন দশক ধরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিজেকে ডেন্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের অপচিকিৎসা করে আসছিল কথিত ডেন্টিস্ট মোহাম্মদ জলিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার চেম্বারে রোগীদের আনাগোনা চলে।  দাঁতের সমস্যা নিয়ে আসলে রোগীদের ব্যথানাশক ইনজেকশন পুশ করে মনের মতো করে তাদের চিকিৎসা দিত মোহাম্মদ জলিল। 

প্রশাসন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুয়া ডাক্তার জলিল দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে নিজের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে আসছিলেন। পড়াশোনা বা কোন রকম সার্টিফিকেট না থাকলে তিনি নিয়মিত রোগীদের দাঁত বাধাই থেকে শুরু করে, দাঁত তোলা, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেলসহ যাবতীয় কাজ করতেন। 

তবে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে শেষ পর্যন্ত আটকে গেল তার ভুয়া ডাক্তারীর নানা কারসাজি।

বুধবার (৩১ আগষ্ট) বিকেল ৫ টায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার পুরাতন ব্রীজঘাট বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জলিলের 'সাকিব চট্টলা ডেন্টাল কেয়ার' নামক চেম্বারটি সিলগালা করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  পিযূষ কুমার চৌধুরী ।

জলিলের নিজ বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরের নালাপাড়া এলাকায় থাকেন। নগর থেকে প্রতিদিন কর্ণফুলী উপজেলাতে চলে তার ভুয়া ডাক্তারি চর্চা।

অভিযান চলাকালীন সময়ে নিজের কৃতকর্মের ভুল স্বীকার করে জলিল সাংবাদিকদের বলেন, পড়াশোনা না করলেও অভিজ্ঞতা থেকে এতদিন রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছি। এটা অন্যায় হয়েছে। এখন অন্য কোন পেশায় চলে যাব।

ভুয়া চিকিৎসক জলিল ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ব্রীজঘাট  বাজারের আনোয়ার সিটি মার্কেটে অবস্থিত 'সূচনা ডেন্টাল কেয়ার' নামক আরো একটি দন্তচিকিৎসা কেন্দ্রকে সিলগালা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানান চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা চেম্বার কর্তৃপক্ষ  ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখাতে ব্যর্থ হয়। যার কারনে তাদের সিলগালা করা হয় হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিযূষ কুমার চৌধুরী নিউজনাউকে বলেন, সারাদেশে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে  অভিযান চলমান রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাঁর ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি অবৈধ দন্ত চিকিৎসালয়কে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একজন ভুয়া ডেন্টিস্টের চেম্বার সিলগালা ও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কর্ণফুলী উপজেলার অবৈধ ক্লিনিক, ভুয়া ডাক্তার এবং অননুমোদিত সকল ফার্মাসির বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করেন কর্ণফুলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: মিজানুর রহমান, ডা: সিরাজুল মনোয়ার আশফাক ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের একটি টিম।

নিউজনাউ/একে/২০২২

X