alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পোলট্রি ব্যবসায় লস খেয়ে হয়ে গেল 'এমপি-এএসপি-ওসি’

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৫০ পিএম

পোলট্রি ব্যবসায় লস খেয়ে হয়ে গেল 'এমপি-এএসপি-ওসি’
alo

 

 

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ নিজের নামও লিখতে পারেন না, পড়াশুনা করেছেন দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। একসময় ছিলেন মুরগি ফার্মের মালিক। লোকসানের পর বদলে ফেলে পেশা। প্রতারণাকেই বেছে নেয় আয়ের পথ হিসেবে। এরপর নিজেকে কখনও সংসদ সদস্য, কখনও পুলিশের এএসপি, কখনও ওসি কিংবা এসআই পরিচয় দিয়ে নানা অজুহাতে হাতিয়ে নেয় টাকা। এই প্রতারকের খপ্পড়ে পড়া বেশ কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ।

গ্রেপ্তার মো. বেলাল হোসেন (৩১) ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার অপরজন হল মো. ওসমান (৫৩)।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল এমএ ইউসুফ জানান, বেলাল দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। পোলট্রি ফার্মের ব্যবসায় লোকসানের পর আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ‘প্রতারণাকে’ পেশা হিসেবে বেছে নেয়। নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, এমনকি হাটহাজারীর সংসদ সদস্য পরিচয় দিয়েও সে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। এক পর্যায়ে প্রতারণাই তার নেশায় পরিণত হয়।

তিনি বলেন, “বছর খানেক আগে এক মুদি দোকানিকে ফোন করে সয়াবিন তেলের ‘ডিলার’ পরিচয় দিয়ে দাম বাড়ার তথ্য জানিয়ে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এর কিছুদিন পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেলাল নিজেকে ভুজপুর থানার এসআই পরিচয় দিয়ে স্থানীয় এক দফাদারের কাছ থেকে নয় জন ইউপি সদস্য প্রার্থীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। পরবর্তী সময়ে তাদের ফোন করে সাতজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে।’

বেলালকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এম এ ইউসুফ আরও বলেন, ‘মাসখানেক আগে রাউজান উপজেলায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বেলাল শিশুটির বাবাকে ফোন করে ছেলের ময়নাতদন্ত না করাতে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা আদায় করে। সম্প্রতি হাটাহাজারী উপজেলায় ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে কিছু দুষ্কৃতিকারী এক তরুণীর বাবাকে মারধর করে। পরবর্তী সময়ে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই মামলার বাদী তরুণীর বাবাকে ফোনে হাটহাজারী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করে। পর পর দুই দিন ওসি এবং সার্কেল এএসপি পরিচয় দিয়ে ৫৩ হাজারের বেশি টাকা আদায় করে। এরপর নিজেকে র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর বাবার কাছ থেকে ফের টাকা দাবি করায় সেটি তার সন্দেহ হয় এবং র‌্যাবকে অবহিত করে। র‌্যাব বেলালের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করে।’

র‌্যাব জানায়, ধূর্ত বেলাল নিজে সামনে না এসে সহযোগীর মাধ্যমে টাকা আদায় করত। সেই সহযোগী ওসমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X