alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কারণ অসংগৃহীত ১৪০ টন প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৬:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কারণ অসংগৃহীত ১৪০ টন প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরে বসবাসরত মানুষেরা প্রতিদিন ৩০০ টন বর্জ্য সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে প্রায় ২৪৯ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয় বর্জ্য কর্ণফুলীতে নদীতে পড়ছে। এরমধ্যে সংগ্রহ হয় ১০৯ টন বর্জ্য, আর অসংগৃহীত থেকে যায় ১৪০ টন। অসংগৃহীত এ ৫৬ দশমিক ২২ শতাংশ (১৪০ টন) প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যেই নগরের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ ও বিরূপ প্রভাব এবং রাস্তা নির্মাণে বিকল্প ব্যবহার শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী পিয়াল বড়ুয়া ও আল আমিন। এটি তত্ত্বাবধান করেছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার পালিত। 

নগরের পনেরো ওয়ার্ডে গত এক বছর ধরে এ গবেষণা চালায় চুয়েট। গবেষণা কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম।

 

চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের যৌথভাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়, চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হিসাবে ২৪৯ টন হচ্ছে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। এসব বর্জ্যের মধ্যে আবার ৩৫.৬১ ভাগ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। নদীতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদীর তলদেশ কিংবা অন্যান্য স্তরে ভাসতে থাকা এসব প্লাস্টিক বর্জ্য খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। এসব মাছ খাদ্য হিসেবে মানুষ গ্র্রহণ করায় মানবদেহে মিশে যাচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মাইক্রোপ্লাস্টিক। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।  

ক্রমাগত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সৃষ্টির পেছনে সাধারণ মানুষের অসচেতনতা, যত্রতত্র ছুড়ে ফেলা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়াকে দুষছেন গবেষকরা।

চট্টগ্রামের নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, পুরো চট্টগ্রাম মহানগরের পলিথিন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে মিশছে। এতে নদীর তলদেশে পলিথিনের বড় স্তর জমেছে। প্লাস্টিক সহজে রিসাইকেল করা গেলেও পলিথিন সহজে রিসাইকেল করা যায় না। এসব পলিথিন নদী থেকে সাগর পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।  

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম পরিবেশ ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার পালিত, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, চট্টগ্রাম চেপ্টারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, পরিবেশ সংগঠক মনোজ কুমার দেব প্রমুখ।

 

 

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২​​​​​​​

X