alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খেলতে না দিয়ে 'মারধর': তদন্ত কমিটি গঠন জেলা প্রশাসনের

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৪:০৫ পিএম

খেলতে না দিয়ে 'মারধর': তদন্ত কমিটি গঠন জেলা প্রশাসনের
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ নগরের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাবাডি দলের শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তদন্ত কমিটি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আবু রায়হান দোলন।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদুল আলম হোসাইনী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য চট্টগ্রামের জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, ৪৯তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য ছাত্রীদের কাবাডি দলকে মাসখানেকেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন। তিনি কাবাডি ফেডারেশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একমাত্র নারী কোচ।

প্রতিযোগিতা শুরুর আগের দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর মেয়েদেরকে ফ্রেঞ্চ বেনী করিয়ে জার্সি পড়িয়ে ছবি তোলেন জাহিদা পারভীন।

অভিযোগ মিলেছে, গ্রুপ ছবি তোলার পরপরই প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরী এসে ছাত্রীদের ক্ষুব্ধস্বরে জিজ্ঞেস করেন কী কারণে তারা চুলে ফ্রেঞ্চ বেনী বানিয়ে জার্সি পরে ছবি তুললো? মাঠে তাদের খেলতেই বা কে বলেছে? প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরী একপর্যায়ে কাবাডি দলের ছাত্রীদের কয়েকজনকে চুল ধরে মারতে থাকেন। এ সময় তিনি গালিগালাজও করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রশিক্ষণার্থী ছাত্রীদের তুচ্ছ কারণে এমন হেনস্তার শিকার হতে দেখে তার প্রতিবাদ জানান কাবাডি দলের কোচ ও ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরী তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো কাবাডি দলের মেয়েদের খেলার মাঠে খেলতে নামাই নিষিদ্ধ করে দেন।
বৃহস্পতিবার স্কুলে ঢুকতে বাধা দেন শিক্ষিকা জাহিদা পারভীনকেও। কাবাডি দলের মেয়েদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে জাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে— এমন অভিযোগও করেছেন ওই শিক্ষিকা নিজেই।

কোথাও কোনো প্রতিকার না পেয়ে কাবাডি দলের কোচ শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন ক্ষোভে-অভিমানে নিজের মাথার সব চুল ফেলে ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করে লিখেন— ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফ্রেঞ্চ বেনী করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধ আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?’

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে জাহিদা পারভীন বলেন, ‘এখন আমাকে চাকরি থেকে বিদায় করছে আমার বকেয়া কোনো পাওনা না দিয়ে। আজকে স্কুলে মেয়েদের সাথে ক্লাস করতে দেয়নি। ভদ্র ভাষায় হেডমাস্টার বাসায় চলে আসতে বলেছেন।’

নিউজনাউ/একে/২০২২
 

X