alo
ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পড়ছি আর অবাক হচ্ছি

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২২, ০২:৪৪ পিএম

পড়ছি আর অবাক হচ্ছি
alo


সুজন কবির: ১৭ শ শতকের গোড়া থেকে উনিশ শতকের শুরুর সময় পর্যন্ত পুরো ভারত বর্ষে (পশ্চিম ও পূর্ব বঙ্গসহ) প্রতি বছর অন্তত ৫০ হাজার মানুষ গুম হয়ে যেতো। এই মানুষদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেতো না। তারা স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে যেতো। 

হয়তো কোন বণিক ক্রোশের পর ক্রোশ হেঁটে বাণিজ্যের উদ্দেশ্য ভিন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি আর গন্তব্যে পৌঁছালেন না। হারিয়ে গেলেন। তার আর কোন চিহ্ন পাওয়া গেলো না। কোথায় তারা হারিয়ে যান?  এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন ব্রিটিশ ভারতের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা মেজর স্নিম্যান। 

সময়টা ১৮শ শতক। সম্ভবত ১৮২৫।  হায়দারাবাদের কাছে এক আমবাগানে তাঁবু ফেললেন মেজর আর তার সৈন্যরা। রাতে মেজরের স্ত্রী বীভৎস এক স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্নে ছ জন মানুষ তাকে মিনতি করছে; আমরা তোমার তাবুর নিচে আটকা পড়েছি। দয়া করে আমাদের উদ্ধার করো। 

সকালেই সেই তাঁবুর নিচ বরাবর ছ ফুট মাটি খুড়ে পাওয়া গেলো ছ জনের মৃতদেহ। যারা এক বছর ধরে নিখোঁজ। চার জন ব্রাক্ষণ, দুজন বামনী। পাশেই মাটি খুড়ে পাওয়া গেলো আরও ১৮ জনের দেহাবশেষ। পুরো ভারত বর্ষ জুড়ে এমন অজ্ঞাত কবরে অন্তত ২০ লাখ মানুষের কঙ্কাল।

Open photo

তারা ছিলো এই বঙ্গেও। ঢাকা থেকে চারজন ব্যবসায়ী উঠেছেন নৌকায়। পাট বেচা টাকা নিয়ে তারা যাবেন ফরিদপুর। তারা হারিয়ে গেলেন বুড়িগঙ্গার অতলে। 

স্নিম্যানের তদন্তে উঠে এলো ভয়ঙ্কর এক খুনি সম্প্রদায়ের নাম: ঠগী। পথিকের সর্বস্ব লুটে নিয়ে রুমালের নিখুঁত ফাঁসে তাদের হত্যা করাই ঠগীদের পেশা। তাদের হাতে বছরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ গুম হয়ে যেতো। 

অথচ তারা ছিলো প্রবল ধর্ম বিশ্বাসী। এই উপমহাদেশে আপাত: ধর্মপ্রাণ মানুষদেরও যে অপরাধ মনস্কতা; তার নৃতাত্ত্বিক কারণটা কি 'ঠগী' ? আমরা কি তবে ঠগীদের উত্তরাধিকারই বয়ে চলেছি?

লেখক: অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর, একাত্তর টেলিভিশন।
 

X