alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিপিসির ডিজি এটিএম সেলিমের সম্পদের পাহাড়

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২২, ০৭:২২ পিএম

বিপিসির ডিজি এটিএম সেলিমের সম্পদের পাহাড়
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এটিএম সেলিম।

নিয়োগে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তা সংস্থাটির যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। 

দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থার হিসাব ও স্বার্থ রক্ষার কথা থাকলেও বরাবরই ব্যক্তিগত হিসেবটাই এটিএম সেলিমের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফয়েস লেক আবাসিক এলাকায় হাজী আবদুল হামিদ রোডে ৬ তলা ভবনে (জোৎস্না-২/এ) স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন এটি এম সেলিম। ৭ কাঠা জমির উপর নির্মিত মনোরম ডিজাইনের ওই বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে জ্যোৎস্না নামে। অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের মতোই এটি এম সেলিমও বাড়িটি শ্বশুরের বলে প্রচার করে থাকেন। আর ভবনের নাম রেখেছেন শাশুড়ির নামে। প্রকৃত ঘটনা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা টাকায় নির্মাণ করা এ বাড়িটি হালাল করার জন্যই এই কৌশল নিয়েছেন এটি এম সেলিম। এই ভবনেই সপরিবারে থাকেন বিপিসির ওই কর্মকর্তা। 

চান্দগাঁও থানার খালাসী লেকের বিপরীত দিকে ৪ ইউনিটের ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল একটি ভবনের মালিক। নগরীর চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে নামে বেনামে একাধিক দোকান। শুধু চট্টগ্রাম নয় দুর্নীতির টাকায় এটি এম সেলিমের সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকাতেও। ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতেও নামে বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন এটিএম সেলিম। এছাড়া অস্ট্রেলিয়াতে বন্ধু আবদুল করিমের কাছে টাকা পাচার করে কিনেছেন বাড়ি ও গড়ে তোলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ৪ জন সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিপিসি। নিয়োগ বোর্ড হিসাব বিভাগে চারজনকে নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে নিয়োগ পাওয়ার ৩ মাসের মাথায় মো. মনিরুল ইসলাম নামের একজন চাকরি ছেড়ে পূর্বের কর্মস্থল সিলেট গ্যাস ফিল্ডে যোগ দেন। শূন্য পদে তার চাচা বিপিসির তৎকালীন কোম্পানি সচিব কামাল উদ্দিনের হাত ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক পদে এ টি এম সেলিমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন প্রকল্পেও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন এ টি এম সেলিম। প্রকল্পের শুরুতে ৫০ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়ে ম্যাক্সওয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ও পাইপলাইন লিমিটেডকে বিল দেওয়ার মতো জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে অডিট রিপোর্টে।

প্রকল্পটির আরডিপিপির (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। খরচ করা হয়েছে ২০৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ কারণে অডিট প্রতিষ্ঠান খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপত্তি দিয়ে রেখেছে। প্রকল্পটির বেশ কিছু ভাউচারের হদিস পায়নি অডিট টিম।

অন্যদিকে, প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার বছর না পার হতেই অফিস ও আবাসিক ভবনের বারান্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে অডিট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে অডিট আপত্তির বিষয়টি স্বীকার করে খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানির চট্টগ্রাম অফিস।

বিপিসির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের এসপিএম প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসপিএম প্রকল্পে জমি অধিযাচন নিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। ধান ক্ষেতকে পানের বরজ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ রয়েছে। ধান ক্ষেতের একরপ্রতি মূল্য ৩ লাখ, আর পানের বরজের মূল্য ৬৩ লাখ নির্ধারণ করে জমি অধিযাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রায় ৯৬ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘুষের টাকা ভাগাভাগির সময় ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ টাকাসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে দুর্নীতির ঘটনা উঠে এলেও মূল হোতা ডিজি সেলিম থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X