alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ছাড়লো জামায়াত; রাজনীতিতে কিসের বার্তা!

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২২, ০৯:১৭ পিএম

বিএনপি ছাড়লো জামায়াত; রাজনীতিতে কিসের বার্তা!
alo

 

শিপন হালদার: করোনা মহামারি আর নানান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও রাজনীতির মাঠ সরব হয়ে উঠছে। সামনের দিনে বেশ উত্তাপ ছড়াবে সেই আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক অনুষ্ঠিত হবে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের মতো আশা করাই যায়। কারণ, মাঠে কর্মসূচি আসছে। পাল্টা কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করছে প্রতিপক্ষ।রাজনীতিবিদেরাও রীতিমত বাহাসে মেতেছেন। বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নিবন্ধন হারানো রাজনৈতিক দল জামায়াতের বের হয়ে যাওয়ায় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’ প্রবাদটি আবারো সত্য হলো।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি চার দলীয় জোট গঠনের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত সম্পর্ক ছিল জামায়াতের। নানামুখী সংকট ছিল, এরপরও গত এক যুগে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে চিড় ধরেনি। কিন্তু সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক ঘরোয়া বৈঠকে ঘোষণা দেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে জামায়াত আর নেই।’ এই ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে হইচই পড়ে যায়। জামায়াত ইস্যুই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক। কেউ কেউ বলছে ‘আপদ বিদায় হলো, কেউ আবার ‘বিএনপির ঘাড় থেকে বিষফোঁড়া নেমে গেল’ কেউবা ‘অপেক্ষা করেন হেফাজতের মতো পর্দার অন্তরালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত গাঁটছাড়া বাঁধে কি-না দেখার বিষয়’ বলে মন্তব্য করছেন। 

জামায়াত ইস্যু নিয়ে বিএনপি মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। কোন কথাই বের করছে না। সোমবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের ‘জোট ত্যাগ’ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন, জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি উত্তর দেবো না। জিজ্ঞাসা করাটা আপনাদের যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনি উত্তর না দেওয়াটাও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনারা গণতান্ত্রিকভাবে যা খুশি বলতে পারেন, লিখে দেন নো প্রবলেম।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘বিএনপি বলে ভয় পেয়ে আমরা তটস্থ হয়ে গেছি। কোথায় সেটা বলুন মির্জা ফখরুল? আপনারা যদি ১০ কিংবা ৫০ জনকে জনগণ মনে করেন তাহলে ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। কেবল শুরু হয়েছে, এক এক করে দলগুলো (জোটের) আপনাদের বিদায় দিচ্ছে। আপনাদের তালাক দিয়ে দিচ্ছে। দলের ভেতরের তালাক যখন শুরু হয়ে যাবে তখন মির্জা ফখরুল দিশাও পাবেন না। দলের ভেতরে যারা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি রয়েছে তারাও খালেদা-তারেককে তালাক দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’

বিএনপি-জামায়াত কখনও আলাদা হবে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দ্বারা বিএনপি-জামায়াতের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আইএসআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপি-জামায়াত একে অপরের পরিপূরক। তারা কখনও আলাদা হতে পারে না, কখনও হবেও না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছাত্রশিবিরের এক সমাবেশে বলেছিলেন, ছাত্রশিবির-ছাত্রদল এক মায়ের পেটের দুই ভাই। আর এক মায়ের দুই সন্তান বিএনপি ও জামায়াত।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য জামায়াত দো’ধারি ছুরির মতোই। থাকলেও বিপদ না থাকলেও বিপদ। বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, জামায়াত চলে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনকে বিএনপির সঙ্গী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আশির দশকজুড়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে ’৯০ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে’ যুগপৎ আন্দোলন করেছে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এরশাদের জাতীয় পার্টি। আবার ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই জামায়াত ও জাতীয় পার্টি ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠন করে রাজপথের আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। অথচ আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালে সেই খেলাফত মজলিশের সঙ্গে ৬ দফা সমঝোতা চুক্তি করেছিল, শুধু নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য!

এই দলবদল আবারো একই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’। জামায়াত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে কিভাবে রং বদলায়। কোন রূপ নিয়ে রাজনীতির মাঠে খেলোয়াড় নামাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি। তবে এটা ঠিক জামায়াত চুপটি করে বসে থাকার দল নয়। তারা রাজনীতির মাঠে খেলবেই! আর সে খেলা ক্ষমতাসীন দল কিভাবে মোকাবেলা করবে-এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায়...। 

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর ডট কম।

X