alo
ঢাকা, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যুবলীগের ৫০ বছর, শক্তির মহড়ায় 'স্মরণকালের সেরা সমাবেশ' আজ

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২২, ০১:১৮ এএম

যুবলীগের ৫০ বছর, শক্তির মহড়ায় 'স্মরণকালের সেরা সমাবেশ' আজ
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। ৫০ বছরে পেরিয়ে ৫১ বছরে পা রাখছে শক্তি, সাহস আর ঐতিহ্যের এই সংগঠন। ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এ যুব সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। প্রায় দশ লাখ লোকের মহাসমাবেশটিকে স্মরণকালের সেরা সমাবেশে রুপ দেওয়ার কথা বলেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এই যুব মহাসমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পার করে বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ মনির বড় সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশ। সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। এই রক্ত প্রজন্মের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে যুবলীগ।

যুবলীগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা। অতীত ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনের পথ চলাই সংগঠনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ।

গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারও নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। যুবলীগের প্রতিষ্ঠা পটভূমিতে জানা যায়, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু একদিন শেখ মণিকে বলেন, ছাত্রজীবন পেরিয়েছে, অথচ যৌবন পেরোয়নি— এরকম বহু যুবক এখন আদর্শ ও লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এখন অলস ও অকর্মণ্য জীবনে লক্ষ্যহীন হয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। নানা উচ্ছৃঙ্খল কাজে জড়িত হচ্ছে। এদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশ ও জাতি গঠনের কাজে লাগাতে পারলে একটি যুবশক্তি তৈরি হবে। যে শক্তির ভেতর থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। দেশ ও সমাজের ভবিষ্যতের রূপকার হবে এই যুবসমাজ।

পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি এই যুব সমাজকে সংগঠিত করতেই গড়ে তোলেন যুবলীগ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনটি একটি শক্তিশালী যুব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। প্রথম চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মনি নিজেই। স্বাধীনতার পর যুবলীগ জিয়া-এরশাদ-খালেদার স্বৈরাচারী শাসনামলেও অকুতোভয়ে সংগ্রাম করেছেন। নির্যাতিত হয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় সংগঠনটির অবদান অনস্বীকার্য।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত সাতটি জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ৩২ বছর। ওই সময় যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪০ বছরের একটি বয়সসীমার বিধান ছিল। ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ওই বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই বছর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে ৩৮ বছর বয়সী আমির হোসেন আমু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু। ওই সময় তার বয়স ছিল ৩৭ বছর। ১৯৯৬ সালের চতুর্থ জাতীয় কংগ্রেসে ৪৭ বছর বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ২০০৩ সালের পঞ্চম জাতীয় কংগ্রেসে ৪৯ বছর বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ কমিটি ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস। এ কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। আর ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ পরশ। এখন পর্যন্ত তিনিই সংগঠনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

আজ বেলা দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে যুবমহাসমাবেশের সভামঞ্চে উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে কার্যত দীর্ঘদিন পর জনসমাবেশে আসছেন যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির পর ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন তিনি একটি জনসভায় বক্তব্য দেন।

 

নিরাপত্তা বলয়

সমাবেশস্থলের বাইরে ও ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। নিউজনাউকে তিনি বলেন, ‘পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আমরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। সমাবেশের আশপাশে ২৯টি পয়েন্টে আমাদের ফোর্স মোতায়েন থাকবে।’

সমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডের হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

বন্ধ থাকবে কিছু সড়ক

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের কয়েকটি এলাকার রাস্তা বন্ধ বা রোড ডাইভারশনের কথা জানিয়েছে ডিএমপি। নগরবাসীকে এজন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

যে সড়কগুলো বন্ধ করা হবে

কাঁটাবন ক্রসিং, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, পুলিশ ভবন ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য ক্রসিং ও উপাচার্য ভবন ক্রসিং।

জনসভায় প্রবেশ যে পথে

সমাবেশে প্রবেশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সবুজ কার্ডধারী অতিথিরা ৩ নম্বর গেট বা রমনা কালি মন্দির দিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবেন। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা জেলা উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ১ ও ২ নম্বর গেট দিয়ে।

খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করবেন ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেট দিয়ে।

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, পলাশী হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে হবে।

বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের যারা বাসে আসবেন তাদের পদ্মা সেতু হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে গুলিস্তান হয়ে নগর ভবনের সামনের রাস্তা, বঙ্গবাজার-সংলগ্ন রাস্তাগুলো এবং জিরো পয়েন্ট-ওসমানী উদ্যান সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সমাবেশে আসতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাকর্মীরা মহাখালী, মগবাজার ফ্লাইওভার, কাকরাইল চার্চের বামে মোড়সংলগ্ন রাস্তা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করবেন।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নেতাকর্মীদের গাবতলী, মিরপুর রোড, সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং, নিউমার্কেট ক্রসিং অথবা গাবতলী, মিরপুর রোড সায়েন্স ল্যাব, কাঁটাবন, নীলক্ষেত ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে হবে।

যুবলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভিআইপি গেট অর্থাৎ শিখা চিরন্তনী গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X