alo
ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
মদের কারবারি

যেকোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন শ্রীনগরের আজিজুল

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২২, ০১:১১ এএম

যেকোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন শ্রীনগরের আজিজুল
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি মদের কারবারি করে দেশজুড়ে আলোচিত মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। শুধু নিজে নয়, দুই ছেলেকেও জড়িয়েছেন মাদক চক্রে। এবার আর শেষরক্ষা হচ্ছে না আজিজুল গং এর। যে কোন সময় গ্রেফতার করা হতে পারে আজিজুলকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র নিউজনাউকে জানিয়েছে, উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিলেও নিম্ন আদালতে হাজিরা দেয়ার আগেই গ্রেফতার হতে পারেন আজিজুল ইসলাম। কারণ, আজিজুল ছেলেসহ বিদেশে গিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। আজিজুলের সম্পদের পাহাড় আর নিরীহদের জমি জবর-দখলের মতো অনেক কুর্কীতির নতুন নতুন খবর গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। সঙ্গতকারণেই চাপের মুখে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীরাও। যারা আজিজুলকে পেছন থেকে সমর্থন দিয়েছেন। 

 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এক বছর ধরে এই চক্র অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা সিঅ্যান্ডএফের যোগসাজশে অবৈধভাবে দেশে মাদক আনে। এজন্য তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করত। চক্রটি দেশে টিভি ও গাড়ির পার্টস ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিপণন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এসব মদ বিদেশ থেকে আনার পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, রাজধানীর বংশাল এবং ওয়ারীতে ওয়্যারহাউসে রাখা হয়। পরে সুবিধাজনক সময়ে বিভিন্ন বারে সরবরাহ করা হতো। ক্ষেত্র বিশেষে সরাসরি ক্রেতাদের কাছেও মদ সরবরাহ করতো।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, প্রায় ৩৭ কোটি টাকার এসব মদ দুবাই থেকে আনা হয়। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার একটি ওয়্যারহাউজ হয়ে এসব অবৈধ মদের গন্তব্য ছিল ঢাকার অভিজাত হোটেল, ক্লাব ও বার। 

ঢাকার ওয়ারীতে নিজস্ব বাড়ি রয়েছে আজিজুলের। অবৈধ সম্পদ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্ত্রী-সন্তানসহ আজিজুল ইসলামেল বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানও শুরু করেছে। যা এখন চলমান। এলাকাবাসীর দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত করে বিতর্কিত ও মদ চোরাকারবারি আজিজুল ইসলাম  ও দুই ছেলে ও তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

 

আজিজুল শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং একই উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আজিজুল এক সময় বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আজিজুল ইসলামের জন্ম দরিদ্র কৃষক পরিবারে। অভাবের সংসারে না খেয়েই দিন কাটতো। ক্ষুধার জ্বালায় শুরু করেন বাদাম বিক্রি। কিছুদিন আইসক্রিমও বিক্রি করেছেন। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের খরচ চালাতেন। কিন্তু সিনেমার কাহিনীর মতো সবকিছু যেন রাতারাতি বদলাতে থাকে। কয়েক বছরের ভেতরে আমদানি ব্যবসা থেকে শুরু করে, বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট-প্লট, আওয়ামী লীগের পদ-পদবি সবই  হয়েছে। বাদাম বিক্রেতা থেকে হয়ে যান শ্রীনগরের অধিপতি। 

X