alo
ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে’ শিশু হত্যা: জামালখানে ধর্ষক লক্ষ্মণ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:১৭ পিএম

‘ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে’ শিশু হত্যা:  জামালখানে ধর্ষক লক্ষ্মণ গ্রেপ্তার
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের জামালখানে চিপস কিনতে ঘর থেকে বের হওয়া শিশু মারজান হক বর্ষাকে (৭) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভয় পেয়ে শিশুটির মুখ ও নাক চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তাকে মুদি দোকানের বস্তায় ভরে নালায় ফেলে দেওয়া হয়। সেই বস্তার সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দোকান কর্মচারী লক্ষ্মণ দাশকে (৩০)।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নগরের জামালখান এলাকা থেকে লক্ষণ দাশকে আটক করা হয়। লক্ষণ দাশ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামের মনি মিস্ত্রির বাড়ির ফেলোরাম দাশের ছেলে। শহরে সে থাকতো নগরের জামালখান গোপাল মুহুরীর গলির পাশে।

গ্রেপ্তার লক্ষণ দাশকে আদালতে পাঠানো হবে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির।

সংবাদ সম্মেলনে উপ পুলিশ কমিশনার মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত শিশুকন্যা বর্ষার প্রতিবেশি ছিল দোকান কর্মচারি লক্ষ্মণ। সে প্রায় বর্ষাকে চকলেট ও চিপস দিত। ঘটনার দিন লক্ষ্মণ ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে দোকানের গোডাউনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের একপর্যায়ে রক্ত দেখে ভয় পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বস্তায় ভরে তার লাশ পার্শ্ববর্তী নালায় ফেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ নালায় পাওয়ার পর যখন বস্তা কেটে বের করা হয় তখন আমাদের নজরে আসে- বস্তায় টিসিবির সীল আছে। সেই সূত্র ধরে টিসিবির সীলযুক্ত বস্তায় মালামাল বিক্রয়ের দোকান ও আশপাশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর গোডাউনে টিসিবির সীলযুক্ত বস্তা খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে শ্যামল স্টোর দোকানের গোডাউন চেক করার সময় একটি খালি টিসিবির সীলযুক্ত বস্তা খুঁজে পাওয়া যায়। দোকানের মালিক ও কোন কোন কর্মচারী সেখানে কাজ করে, তাদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করি। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়। টিসিবির সীলযুক্ত বস্তা ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় আসামি লক্ষণ দাশকে শনাক্ত করি। এরপর জামালখান এলাকার শ্যামল স্টোর নামক দোকানের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি লক্ষণ দাশকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার(২৫ অক্টোবর) বিকেলে চিপস কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল মারজান হক বর্ষা নামে সাত বছরের শিশুটি। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার জামালখানের শিকদার হোটেলের পাশের গলিতে বড় নালা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। সে স্থানীয় কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই এলাকাতেই পরিবারের সঙ্গে থাকতো বর্ষা। তার বাবা আব্দুল হক, মা ঝর্ণা বেগম। তাদের ছয় মেয়ের মধ্যে সবার ছোট বর্ষা।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X