alo
ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে 'পীরবাবা'র হাতে মেয়ে খুন, আদালতে বিচার শুরু

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০২২, ১২:১৮ এএম

চট্টগ্রামে 'পীরবাবা'র হাতে মেয়ে খুন, আদালতে বিচার শুরু
alo

 


চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বোনের বিয়ের কথা গোপন রাখায় নিজের মেয়েকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কথিত এক পীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে আদালতে। খুনের ১৩ বছর পর কথিত পির আব্দুল মতিনসহ ৫ আসামির বিচার শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত ২য় মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আমিরুল ইসলামের আদালতে বিচার শুরু হয়। এ দিন মেয়ে হাফসা হত্যা মামলায় পিতা কথিত পীর মতিনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন পুত্র ও কন্যারা।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কথিত পীর মতিন তার চার মেয়ে উম্মে হাবিবা, উম্মে হাফসা, উম্মে আয়শা ও উম্মে রুম্মানকে বিয়ে না দিয়ে ‘তাপসী রাবেয়া বসরী’ বানিয়ে নিজের মতবাদ প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু উম্মে হাবিবা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে তার ফুপাতো ভাই রোজিন রহমানকে বিয়ে করে পীরের আস্তানা থেকে পালিয়ে যায়। এতে সহায়তা করার অভিযোগে তিন মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে গৃহবন্দী রেখে দোররা মেরে হত্যার ফতোয়া দেন মতিন।

মতিনের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে ২০০৯ সালের ১৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে হাফসা, আয়শা ও রুম্মানকে অনাহারে রেখে অন্যান্য আসামিরা দোররা মারতে থাকে। মোটা বেত দিয়ে থেমে থেমে দিনভর পেটানোর ফলে রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে আয়শা ও রুম্মান। তাদের অজ্ঞাতস্থানে সরিয়ে হাফসাকে রাতভর থেমে থেমে পেটানো হয়।

পরদিন সকাল ৭টার দিকে তার মুখ কাপড় দিয়ে এবং দুই হাত পেছন থেকে শেকল দিয়ে বেঁধে উপর্যুপরি দোররা মারতে থাকে। নির্মমভাবে মারধরের একপর্যায়ে হাফসা মারা যান। তখন হাফসার মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে মতিন বলেন- তুমি একজন শহীদের গর্বিত মা। পরে নিহত হাফসাকে গোপনে আস্তানার মালখানার ভেতরে কবর দেওয়া হয়।

বাদীর আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আদালতে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় আনা অভিযোগকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পাহাড়তলী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল। এর বিরুদ্ধে বাদী আবু দারদা নারাজি আবেদন দাখিল করলে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৫৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে মহানগর হাকিম আদালত থেকে দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর হয়।

২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মতিনসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। কিন্তু মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মতিন উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। চার বছর পর ২০১৯ সালের ১৪ মে উচ্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে ছয় মাসের মধ্যে বিচারকাজ ‍শুরুর নির্দেশনা দেন। এর ভিত্তিতে গত অক্টোবর থেকে ফের বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান জানান, ২০১৯ সালে ১৪ মে উচ্চ আদালতে আসামির ফৌজদারি রিভিশন খারিজ হলে আদালত ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। মামলার এজাহার বহির্ভূত সাজানো সাক্ষী উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর মামলার বাদি আবু দারদা জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে আজ (সোমবার) অন্যান্য সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন।
নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X