alo
ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাত বছর পর জানা গেল মেয়ের খুনি বাবা

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৬:২১ পিএম

সাত বছর পর জানা গেল মেয়ের খুনি বাবা
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: ২০১৫ সালে নিজ হাতে মেয়েকে খুন করে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অহরণ মামলা করে বারবার নারাজি এবং পরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে মামলা করে পিবিআই ঢাকা জেলার জালে ধরা পড়ল বাবা আঃ কুদ্দুছ খাঁ (৫৮)। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে, খুন করেছে জয়পুরহাটে। ২০ জানুয়ারি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে লোমহর্ষক, বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে আঃ কুদ্দুছ খাঁ।

রবিবার (২২ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার জানান, ঘটনার শুরু ২০১২ সালে। তখন আঃ কুদ্দুছ খাঁর মেয়ে মোছাঃ পারুল আক্তার টাঙ্গাইলের কালিহাতির একই এলাকার মোঃ নাছির উদ্দিন ওরফে বাবুকে (১৯) ভালোবেসে ঢাকায় পালিয়ে এসে বিয়ে করেন। এই ঘটনায় কুদ্দুছ খাঁ ২০১২ সালে কালিহাতি থানায় জিডি করেছিলেন। উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় বসবাস শুরু করেন। চাকরি নেয় পোশাক কারখানায়। পারিবারিক অশান্তি চলতে থাকে। পারুল তার বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা জানায়। বাবা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিল। অপমানবোধ ও প্রচণ্ড রাগও ছিল। একপর্যায়ে ভালো ছেলে দেখে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে উন্নত জীবন যাপনের লোভ দেখায়। ১৮ জুলাই ২০১৫ সালে নাছির তার নানিকে দেখতে যায়। সেই সুযোগে বাবার দেয়া আশ্বাসে পারুল ১৯ জুলাই তার বাবাকে ফোন করে টাঙ্গাইলে যান। একই দিন পারুল আক্তারের স্বামী মোঃ নাছির আঃ কুদ্দুছ খাঁর বিরুদ্ধে মেয়েকে বাবার বাড়ি পালিয়ে যেতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় জিডি করেন।

পিবিআই জানায়, ১৯ জুলাই ২০১৫ সালে বাবা তার মেয়েকে নিজ বাড়িতে না নিয়ে বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলের বাড়ি ভূঞাপুরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মোকাদ্দেছ ভবিষ্যতে পারুলকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং কিছুদিন নাছিরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে হবে এই আশ্বাস দিয়ে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে ভিকটিমকে তার বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পিবিআই আরও জানায়, আসামির ১৬৪ এর বর্ণনা অনুসারে তারা তিনজন রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে থাকেন। মেয়ের ইতিপূর্বের কার্যকলাপের অপমানবোধ ও রাগ থেকে মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারপর মেয়ের ওড়না দুই টুকরো করে বাবা মেয়ের হাত এবং মোকাদ্দেছ পা বাঁধে। বাবার নিজের গামছা দিয়ে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারা ভিকটিমের লাশ নদীতে ফেলে দিয়ে টাঙ্গাইলে চলে আসে। ৪ আগস্ট ২০১৫ নাছিরের পরিবারের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুছের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তার মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।

পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।

নিউজনাউ/কেআই/২০২৩
 

X