alo
ঢাকা, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম আদালত থেকে পলাতক বাচ্চু ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৮:২৭ পিএম

চট্টগ্রাম আদালত থেকে পলাতক বাচ্চু ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম আদালত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আসামি শামসুল হক ওরফে বাচ্চুকে (৭১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২২ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী বাস-স্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৭ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

শামসুলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার কালীরবাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত রহমত আলী। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানা মাদক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর আসামি বাচ্চু চট্টগ্রাম আদালত থেকে কৌশলে পালিয়েছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় পৃথক মামলা দায়ের হবে। একই সঙ্গে আদালত থেকে পালানোর অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম আদালত থেকে পালিয়ে যান মাদক মামলার আসামি শামসুল হক ওরফে বাচ্চু। এ ঘটনায় পরদিন নগরের কোতোয়ালি থানায় সদর কোর্ট পরিদর্শক জাকের হোসাইন মাহমুদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধি আইনের ২২৪ ধারায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় শামসুল হককে একমাত্র আসামি করা হয়।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ৪ জানুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভা উত্তর গাছবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। ওই দিন দুপুরে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহী বাস থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ শামসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পর দিন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে তাকে মাদক মামলার জিআরও শাখায় বুঝিয়ে দেয় চন্দনাইশ থানা পুলিশ। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর শামসুলকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়। 

 

 

আসামিকে হাজতে রাখার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। এরপর তাকে হাজতখানার সামনে সেরেস্তা টেবিলের পেছনে একটা বেঞ্চে বসতে দেওয়া হয়। ওই সময় কর্তব্যরত পুলিশ আসামিদের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই ফাঁকে শামসুল পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ওইদিন রাতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) শাখা এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি সম্প্রতি এসপি বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে পাঁচ পুলিশকে অভিযুক্ত করা হয়।
নিউজনাউ/জেআর/২০২৩
 

X