alo
ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরেও স্বদেশে ফেরেনি কোন রোহিঙ্গা, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২২, ০৯:২১ এএম

পাঁচ বছরেও স্বদেশে ফেরেনি কোন রোহিঙ্গা, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি
alo

 


নিউজনাউ ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আশ্রয়ের পাঁচ বছর হতে চললেও আজ অবধি একজন নাগরিকও তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে পারেনি।

গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গাদের দেখতে এসেছেন অনেক বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটি। আশ্রয় দেয়ায় প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ, কিন্তু সমস্যা সমাধানের কিছুই হয়নি।

এদিকে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই জন্ম নিয়েছে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশু; তাতে বাংলাদেশের ওপর তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। আশ্রিত রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। ব্যবহার হচ্ছে টার্গেট কিলিংয়ে। ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গুম, অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। ফলে স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি পুরো জেলায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

জানা গেছে, মিয়ানমার বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আগ্রহী নয়। গত পাঁচ বছরের তাদের ট্র্যাক রেকর্ড তা-ই বলছে। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের বিকল্প নেই।

বিশাল এই জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন কবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় ক্যাম্পে অন্তত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক একাধিক চুক্তি অনুযায়ী এতদিনে অধিকাংশ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার কথা। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমার ফেরত নেয়নি। বাংলাদেশও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ভূ রাজনৈতিক মারপ্যাচের কবলে পড়ে কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ও চীন যদি মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে তাহলে হয়তো এর একটা সমাধান হতে পারে।কয়েকদিন আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার কথার সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলছেন তারা।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার ওপর একটি কার্যকর চাপ তৈরি করতে হবে। তা না হলে বাস্তুচ্যুত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নয়েলিন হেইজার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

মানবিক বিবেচনায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক, পরিবেশসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিরাজমান হতাশা তাদেরকে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ উগ্রবাদে সম্পৃক্ত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এমনটা হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে বলেও মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতকে বলেন তিনি।

নিউজনাউ/এবি/২০২২

X