alo
ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে শাহজালালের গ্রাউন্ড-কার্গো হ্যান্ডলিং

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:৩৯ পিএম

বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে শাহজালালের গ্রাউন্ড-কার্গো হ্যান্ডলিং
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচকের) পরিচালনা পর্ষদ। 

গত ১১ আগস্ট বেবিচকের ২৮১তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বেবিচক’র চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে বেবিচক পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে বিমানের ১ হাজার থেকে ১৫শ কোটি টাকার ব্যবসা হাতছাড়া হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ছেড়ে দেওয়া হয়েছে দুবাইভিত্তিক বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানি ‘ডানাটা’র কাছে। 

এদিকে বিমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কাটছে না। নানা চেষ্টা-তদবির আর শত শত কোটি টাকা খরচ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না যাত্রীদের। উলটো দেরিতে ফ্লাইট ছাড়ার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি দেশে আসা যাত্রীদের লাগেজ পেতেও দেরি হচ্ছে। এছাড়া হরহামেশা হচ্ছে লাগেজ কাটাছেঁড়া আর চুরি। বিমানের স্টাফরা মাথা থেকে বেল্টে আছড়ে ফেলছে লাগেজ। এ কারণে প্রতিনিয়ত ভেঙে যাচ্ছে লাগেজ ও ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিভাগ থেকে পাওয়া অধিকাংশ লাগেজে গুরুত্বপূর্ণ ও দামি মালামাল থাকে না।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের পর আমরা লাগেজ হ্যান্ডলিং, মালামাল লোড-আনলোডসহ টার্মিনালের যাবতীয় অপারেশনাল কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে প্রশাসনিক, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতেই থাকবে। বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রীরা দ্রুততার সঙ্গে সেবা পাবেন এবং যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জবাবদিহিতা থাকবে।’ 

জানা যায়, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বাংলাদেশ বিমানের পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের জন্য রাতে ৮ ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। টার্মিনালের ভেতরে-বাইরে, এয়ারলাইনসের চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। প্রতিটি ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি। বোর্ডিং ব্রিজ না পেয়ে বে-এরিয়াতে পার্ক করে অপেক্ষায় থাকতে হয় উড়োজাহাজগুলোকে। উড়োজাহাজ থেকে নেমে বিমানবন্দরের ভেতরে লাগেজ বেল্ট এলাকায় আসতে বাস স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের বিলম্বের ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এয়ারলাইনস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি এয়ারলাইনসের যাত্রীদের চেক-ইন কাউন্টার সামলানো, বোর্ডিং, উড়োজাহাজে মালামাল ওঠানো-নামানো, যাত্রীসেবা, প্রকৌশল সেবা ও জিএসই (গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট) সেবাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা বলে। এজন্য প্রতিটি এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট হারে ফি দেয় বিমানকে। কিন্তু বিমানের পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতি ছাড়াও যন্ত্রপাতি ও তদারকির অভাবে জিএসএ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদেশি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানের জনবল না থাকায় তারা নিজেদের স্টাফ দিয়ে বোর্ডিং কার্ড ইস্যু করাচ্ছে। অথচ এটা করার কথা বিমানের। শুধু তাই নয়, নিজেদের স্টাফ দিয়ে কাজ করালেও এজন্য প্রতি ফ্লাইটে সেবাভেদে ২ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিমানকে দিতে হয়। অহেতুক এ টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিমান।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন ২৭টি এয়ারলাইনসের ১৩০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য এখনই বিমানের পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল ও সরঞ্জাম নেই। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হবে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন কাজ করছেন। আর হাইলোডার, ট্রান্সপোর্টার, ডলি, ট্রলি, টোয়িং ট্রাক্টর, হুইলচেয়ারসহ ১৮ ধরনের দুই শতাধিক যন্ত্রপাতি আছে। তারপরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। জানা গেছে, অধিকাংশ কর্মীই কাজ করছে না।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X