alo
ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের ‘দুর্গ' ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশ আজ, উৎসবের আমেজ

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২২, ০১:৪৪ এএম

আ.লীগের ‘দুর্গ' ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশ আজ, উৎসবের আমেজ
alo

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে বিএনপির ষষ্ঠ বিভাগীয় সমাবেশ। আজ শনিবার বিএনপির এই বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু হবে বেলা ১১টায়। সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সমাবেশস্থলে এসেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর নিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল। যেখানে বরাবরই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ শক্তিশালী। তাদের ‘দুর্গে’ বিএনপির এইবিভাগীয় সমাবেশে বড় জমায়েতের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তাই বিভিন্ন চাপে, কারণে একদিন আগে শরীয়তপুরের সাথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও সমাবেশমুখী নেতা-কর্মীরা তিনদিন আগে থেকেই অটোরিকশায় ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসে সেখান থেকে সমাবেশস্থলে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাবেশস্থল ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে কোমরপুরে আব্দুল আজিজ ইন্সটিটিউট মাঠে বিএনপির মহাসচিবের সাথে আরও ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির দুই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাশুকুর রহমান ও মো. সেলিমুজ্জামান এবং অন্য নেতারা।

সমাবেশে উপস্থিত হয়ে মির্জা ফখরুল সমাবেশের মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে উৎসাহিত করেন। এরই মধ্যে মঞ্চসহ যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মাঠ কানায় কানায় ভরে গেছে নেতাকর্মীতে।

শুক্রবার রাতে দেখা গেছে, মাঠে নেতাকর্মীরা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান নিয়েছেন। হাজারো লোকে মুখর হয়ে উঠেছে মাঠ। মাঝে মাঝেই উঠছে স্লোগান। চলছে খোশগল্প, খাওয়া-দাওয়া, এমনকি গানবাজনাও। পরিবহন ধর্মঘটের দুর্ভোগ মাড়িয়ে বিকেলেও ট্রাক, মাহিন্দ্রতে চড়ে শরীয়তপুর, মাদরীপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা ঢুকেছেন মাঠে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে কোমরপুর স্কুল মসজিদ ও মাঠে নামাজের আয়োজন করা হয়। এতে সমাবেশে আগত শত শত নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে আবারও পুরো সমাবেশস্থল মিছিল, স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এ সময়, ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’, ‘খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশকে সফল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতারা ফরিদপুরে অবস্থান করছেন। তারা একের পর এক প্রস্তুতি সভা, মিটিং ও লিফলেট বিতরণ করছেন। বিভাগের প্রতিটি জেলাগুলোতেও প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের সমাবেশে থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সমাবেশে উপস্থিত করতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকায় বড় জমায়েত করে নিজেদের শক্তি জানান দিতে চায় বিএনপি।

ফরিদপুর মহানগরের আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম বলেন, সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, কিন্তু কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতাই সমাবেশকে ঠেকানো সম্ভব হবে না। এত প্রতিবন্ধকতার পরেও সমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণ এই সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা এ সরকারের পতন চায়। মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। আমরা বেগম জিয়ার মুক্তি চাই। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

বিএনপির এই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরসহ ৫টি জেলায় পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৩৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির বাসও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, মামলা-হামলা, গুম, হত্যা, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। তার আগে সারা দেশে হচ্ছে বিভাগীয় সমাবেশ।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X