alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ কি তাহলে শুধুই 'হাঁকডাক'

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৫:৪৩ পিএম

বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ কি তাহলে শুধুই 'হাঁকডাক'
alo

 

পার্থ প্রতীম নন্দী: রাজধানীতে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে দেশের রাজনীতিতে চলছিল ব্যাপক আলোচনা! কারণ বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান বলেছিলেন আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে দেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়। এর প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে পাল্টা কর্মসূচিতে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা নিয়েই আগাচ্ছে। ফলে আলোচনা আরও ভিন্ন মাত্রা পায়। 

তবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনায় যেন জলই ঢেলে দিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, তারা সরকার পতনের দাবিতে যে আন্দোলনে নেমেছেন, সেটি অর্জনে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশটি কোনো চূড়ান্ত কর্মসূচি নয়। সেই সমাবেশ থেকে বিরাট কোনো ঘোষণা আসবে- এমন কথাও বলেননি তিনি।

ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ অন্য নয়টি সমাবেশের মতোই জানিয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা, মন্ত্রীরা বিভিন্নভাবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি ঢাকায় হচ্ছে বিভাগীয় সমাবেশ। আমরা যে কর্মসূচি দিয়েছিলাম ১০ টি বিভাগ নিয়ে, তার সর্বশেষ কর্মসূচি হচ্ছে ঢাকায়। ঢাকা থেকে হয়তো আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি, দাবি দেয়া নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে আসব। এটা আমাদের চূড়ান্ত কর্মসূচি নয়, এটা হচ্ছে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি।’

গত সোমবার (১৪ নভেম্বর) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ বিশেষ করে ঢাকায় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের মন্ত্রী ও সরকার দলীয় নেতাদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, ঢাকায় গণসমাবেশ চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি বিভাগীয় সমাবেশ। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের সব হীন চক্রান্তকে ব্যর্থ করে জনগণ তাদের ন্যয্য দাবিতে সমবেত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হবে। একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে বানচাল করার চেষ্টা করা হলে জনগণ কখনই তা মেনে নেবে না। সকল বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণ গণসমাবেশ সফল করবে।

১০ ডিসেম্বর বাড়াবাড়ি করলে বিএনপিকে হেফাজতের মতো দমনের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন ফখরুল। বলেন, ‘হেফাজতের মতো দমন করার অবস্থা এখন আর দেশে নেই। হেফাজতের সময় তারা যেটা করেছেন, এখন জনগণের সাথে সেটা করতে পারবেন না। কারণ হচ্ছে, জনগণ তাদের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে। যে কোনো মূল্যে এবার দাবি আদায় করে ছাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে বান চাল করার চেষ্টা করা হলে জনগণ কখনই তা মেনে নেবে না। সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণ গণ-সমাবেশকে সফল করবে।

‘১০ ডিসেম্বর’ কী হবে, বিএনপির ঘোষণা নিয়ে কী ভাবছে ক্ষমতাসীনরা- এমন প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন সময় বক্তব্যে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা মূলত বিএনপির ফাঁকা আওয়াজ। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে বা রাখতে তারা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ‘১০ ডিসেম্বর’কে সামনে এনেছে। ওইদিন আসলে কিছুই হবে না বলে মনে করেন তারা। 

তবে তারা যায় মনে করুন না কেন, রাজনীতির মাঠ আওয়ামী লীগ ছাড়বে না সেটা বুঝা যাচ্ছে তাদের সামনের কর্মসূচি দেখলেই। এর মধ্যে গত ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে লাখ লাখ জমায়েত নিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন করেছে যুবলীগ। ‘১০ ডিসেম্বরে’র আগে ক্ষমতাসীনরা রাজধানীতে আরও বেশকিছু সমাবেশ-সম্মেলন করবে। এর মধ্যে আছে ২৬ নভেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন, ৮ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলন এবং ১৫ ডিসেম্বর যুব মহিলা লীগের সম্মেলন। এসব সমাবেশ ও সম্মেলনের মাধ্যমে রাজধানীতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও চাঙা রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ৬ নভেম্বর জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় বলেছেন, ‘বিএনপি নাকি ১০ ডিসেম্বর রাস্তায় বের হবে। ওইদিন তারা নাকি খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিজয় মিছিল করবে। তার মানে লাঠিসোঁটা নিয়ে নামবে। এর বিরুদ্ধে খেলা হবে। বাড়াবাড়ি করলে ছাড় দেবো না।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে এই কথার লড়াইয়ের মধ্যে বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুলিশ দলটিকে মৌখিকভাবে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান বা পূর্বাচল অথবা মিরপুরের কালসীতে সমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য আসেনি।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X