alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

'ওয়াসায় লুটপাট চলছে'

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:০৭ পিএম

'ওয়াসায় লুটপাট চলছে'
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। চিঠিতে কোনো কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ে দেওয়া সেই বেনামি চিঠি আমলে নিয়ে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন, ওয়াসায় লুটপাট চলছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে সরানোর আয়োজন চলছে। এ চিঠি সে উদ্যোগেরই অংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের  সঙ্গে আলাপকালে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।

জানা যায়, ৩০ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বেনামি ওই অভিযোগ দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান পদটি নির্বাহী পদ না হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যান বিভাগীয় প্রধানদের ডেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। নথি অনুমোদন ছাড়াই চেয়ারম্যান তার নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান পদটি সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের মতো প্রতিদিন অফিস করেন।

এতে আরও বলা হয়, ওয়াসার কর্মচারীরা সিবিএ নেতা দাবি করে ঠিকমতো ডিউটি করেন না। কর্মচারীদের ঠিকমতোদায়িত্ব পালন করতে বললে তারা চেয়ারম্যানের ভয় দেখান। অফিসে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান কিছু ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ারও নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ আনা হয় চিঠিতে।


১৫ নভেম্বর ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা এ বিভাগে অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান পদটি নির্বাহী পদ না হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যান বিভাগীয় প্রধানদের ডেকে নির্দেশনা দেন। নথি অনুমোদন ছাড়া অন্যসব নির্দেশনা পালনে বাধ্য করেন। প্রতিদিন ঢাকা ওয়াসা ভবনে বসে বরখাস্ত কর্মচারীদের তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উসকে দেন। সিবিএ নেতা দাবি করে এসব কর্মচারী নিয়মিত অফিস করেন না। তারা চেয়ারম্যানের ভয় দেখান। এসব কর্মকাণ্ডে অফিসে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া ঢাকা ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান কয়েকজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ ওইসব ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে মতামত দিতে বলা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর বেনামে অভিযোগ করেন ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা। আর বেনামি অভিযোগ আমলে নিয়ে চিঠি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বেনামি চিঠির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা তলব বা মতামত জানতে চাওয়া অযৌক্তিক এবং বোর্ডের মনোবল দুর্বল করার অপপ্রয়াস। এর পেছনে দুর্নীতিবাজ চক্র এবং মন্ত্রণালয়ের কিছু অসৎ কর্মকর্তা একত্র হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের চিঠি ইস্যু হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো হাতে এসে পৌঁছেনি। চিঠি হাতে পেলে জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে মতামত জানতে চাওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটা মন্ত্রণালয়ই বলতে পারবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাইরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত বেনামি চিঠি মন্ত্রণালয় আমলে নেয় না। ঢাকা ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যানের মতামত জানতে চাওয়ার অভিযোগের চিঠিটি বেনামি কিনা বলতে পারব না।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 
 

X