alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কার বন্দরে বাংলাদেশী পণ্য পরিবহন বাড়াতে শিপিং এজেন্টেদের প্রস্তাবনা

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২২, ১১:২১ পিএম

শ্রীলঙ্কার বন্দরে বাংলাদেশী পণ্য পরিবহন বাড়াতে শিপিং এজেন্টেদের প্রস্তাবনা
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বাড়াতে শ্রীলঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষকে গুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন। শ্রীলঙ্কা পোর্ট অথোরিটিও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহনে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে শ্রীলঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হয়। শ্রীলঙ্কা পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান কিথ ডি বার্নার্ডসহ নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন।

প্রস্তাবনা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাওয়া ফিডার ভ্যাসেলকে অন-এরাইভ্যাল বার্থিং দেওয়া, বাংলাদেশী পণ্যের কনটেইনার রাখতে আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা, অন্যান্য ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টের ন্যায় কলম্বো পোর্টের খরচ কমানো, কলম্বো পোর্টে ফিডার ভ্যাসেলের পণ্য মাদার ভ্যাসেলে ওঠা-নামার মধ্যকার ইন্টার টার্মিনাল ট্রান্সফারের (আইটিটি) সময় কমানো, মাদার ভ্যাসেলে বাংলাদেশী রপ্তানি পণ্য তুলে দিতে অন্যান্য ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টের চেয়ে কলম্বো পোর্টের কাট অব টাইম বাড়ানো ও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশী রপ্তানি পণ্যের এয়ার শিপমেন্ট টাইম কমানো ইত্যাদি।

বৈঠকে শ্রীলঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কিথ ডি বার্নার্ড বলেন, বাংলাদেশের শিপিং বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলেছে করোনার সময়। সারা বিশ্ব যখন বন্ধ ছিল সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনার কার্যক্রম চালু ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিনিয়ত আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। শ্রীলঙ্কার সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ চলাচল গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কা পোর্ট অথোরিটি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহনে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত।

কিথ ডি বার্নার্ড আরও বলেন, সম্প্রতি শ্রীলংঙ্কা এক ভয়ানক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে এ কারণে শ্রীলংঙ্কার বন্দরের কার্যক্রমে কোন প্রভাব পড়েনি। আমাদের সক্ষমতা আছে এবং দিন দিন আমরা শ্রীলঙ্কা বন্দরে কার্য পরিধি বাড়াচ্ছি। যার সুফল বাংলাদেশ নিতে পারে।

সভায় বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকায় পণ্য পরিবহনে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট ব্যবহার করতে হয়। সেক্ষেত্রে জাহাজের প্রিন্সিপাল প্রতিষ্ঠানগুলো যে রুটকে সহজ ও সাশ্রয়ী মনে করবে সেই বন্দর দিয়েই জাহাজ পরিচালনা করবে। এটাই সাধারণ নিয়ম। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা বন্দর বিরাট ভূমিকা রাখে। এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন বাড়ছে। তবে সেবার মান বাড়ালে ও খরচ কমলে ব্যবসায়ীরা এই বন্দরের প্রতি আরো আকৃষ্ট হবেন। তাই শ্রীলঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষকে শিপিং বাণিজ্যে বাংলাদেশীদের চাওয়াগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুল, ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খান, এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আতাউল করিম, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

মূলত, সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর পোর্ট কেলাংয়ে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঝুঁকি বিবেচনায় শ্রীলংঙ্কায় কম জাহাজ পাঠায়। ফলে সে দেশের সাথে সমুদ্র বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। এই সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার বন্দরগুলোর সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াতে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে আসে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মাদার ভ্যাসেলে (বড় জাহাজ) পণ্য তুলে দিতে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে চারটি বন্দর ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর পোর্ট, শ্রীলঙ্কার কলম্বো পোর্ট ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও তানজুং পেলেপাস। এরমধ্যে সিংঙ্গাপুর বন্দরের পর শ্রীলংঙ্কার কলম্বো পোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রচুর পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X